প্রতিরোধ আর বিজয়ের নারায়ণগঞ্জ
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী শহীদ হয়েছেন ৫৫ জন আহত ছয় শতাধিক

নারায়ণগঞ্জ, ৩ আগস্ট-২০২৪
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখতে গেলে আলাদা করে স্মরণ করতেই হয় নারায়ণগঞ্জকে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই জেলা কয়েকটি দিনে পরিণত হয়েছিল সংঘর্ষ, প্রতিরোধ, মৃত্যু ও ধ্বংসস্তূপের এক বিস্তীর্ণ জনপদে। টানা কয়েক দিনের দমন-পীড়ন, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ের উচ্ছ্বাস— সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ওঠে চব্বিশের আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি আজও বহন করছে শহীদের নাম, ক্ষতচিহ্ন আর মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসা অসংখ্য গল্প।
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের অবদান ছিল একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী। জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন ৫৫ জন। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। শহীদ ও আহতদের স্মরণে ফতুল্লার হাজীগঞ্জে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। সেখানে নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা ২১ জন শহীদের নাম খোদাই করা আছে। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশু রিয়া গোপ, মো. রোমান, আরমান মোল্লা, মো. ইরফান ভূঁইয়া, মো. তুহিন, মো. মোহসীন, মো. জনি, ইব্রাহিম, মো. স্বজন, মো. আদিল, পারভেজ হাওলাদার, মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূইয়া, ছলেমান, ইমরান হাসান, হযরত বিল্লাল, সফিকুল, মো. সজল, মো. মাবরুর হুসাইন, মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমান খান, মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং আহসান কবির। প্রতিটি নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন, একটি আন্দোলনের গল্প।
৯৬ ঘণ্টার বিভীষিকা: ১৭ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও ১৮ জুলাই সকাল থেকে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। ১৮-২১ জুলাই— এই চার দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে কেঁপে ওঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো।
বিজয়ের উচ্ছ্বাস, প্রতিশোধের আগুন: ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুর থেকে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নারায়ণগঞ্জ শহর। সেনাপ্রধানের ভাষণের সময় থেকেই চাষাঢ়া ও আশপাশের সড়কে হাজারো মানুষ জড়ো হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন নারী-পুরুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং সাধারণ মানুষ। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা শামীম ওসমানের জামতলার বাড়ি, হীরা ভবন, সেলিম ওসমানের বাড়ি, রাইফেল ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, থানা, আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।






