সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যা: চারদিনের রিমান্ডে বাবুল

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট নগরীর রায়নগরে তিন খুনের মামলায় বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ওসি শিপলু চৌধুরী।
আজ রবিবার বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে তাকে চার দিনের রিমান্ডে দেন বিচারক ফারহানা সুলতানা।
গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আটক করা হয় তাহমিনার ‘প্রেমিক’ বাবুলকে। পরে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন।
তবে শুরু থেকেই পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানাচ্ছে নিহত দম্পতির পরিবার। তাদের অভিযোগ, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এই হত্যাকাণ্ড। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি স্বজনদের।
মামলার বাদী সেলিনা বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তির পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে।’ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
একই ধরনের দাবি করেছেন নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার বাবা।
গত বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেন।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর বাসার বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাসার বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানান, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার ‘খারাপ আচরণে’ ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। প্রথমে তাহমিনাকে হত্যা করেন তিনি। পরে বাধা দিতে গেলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং সবশেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন বাবুল।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ভেতর থেকে দরজা আটকে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে সিলেট নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







