সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী খুন : গৃহকর্মীর ‘প্রেমিক’ আটক

সিলেটের এই বাড়িতে (বাঁয়ে) দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যায় সন্দেহভাজন বাবুল আহমেদ (ডানে)। ছবি: আগামীর সময়
সিলেট মহানগরীর রায়নগরে বাড়ি থেকে দম্পতি ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বলা হচ্ছে, বাবুল আহমদ নামের ওই যুবক নিহত গৃহকর্মীর প্রেমিক। প্রাথমিক তদন্তের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানিয়েছেন, বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও এতে আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না- সেসব খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, গৃহকর্মী তাহমিনার ওপর হামলার মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে গেলে হত্যা করা হয় তাকেও। বাধা দিতে গিয়ে হত্যার শিকার হন গৃহকর্তা।
রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে নিহতরা হলেন, আব্দুস সাত্তার মিয়া (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)।
ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ছিল আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রীর। ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের তিনতলা ভবনটি তাদের নিজস্ব। দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকত এই দম্পতি। নিচতলা ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া ছিল। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্য এবং দুজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
নিজ ফ্ল্যাটেই আজ সকালে পাওয়া গেছে এই দম্পতি ও গৃহকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, চুরির ঘটনার জেরে এই হত্যাকাণ্ড।
হত্যার খবরে ঘটনাস্থলে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ছিলেন ব্যবসায়ী। ছিলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্যও।
তার ভাগনে মো. মুন্না বললেন, ‘সকালেও প্রতিবেশীরা তাদের কথাবার্তা শুনেছেন। মনে হচ্ছে সকাল ৯টার পর কোনো একসময় তাদের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো আমরা নিশ্চিত না।’
সকালে ওই বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটটির দরজা খোলা পায়। ভেতরে পরে থাকতে দেখে মরদেহগুলো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, ‘কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্রাইম সিন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি... ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে।’






