ছেলে প্রতিবন্ধী তাই নিজেই খুলেছেন স্কুল, বিনামূল্যে পড়ছে ১৩২ শিশু

ছবি: আগামীর সময়
প্রতিবন্ধী ছেলের শিক্ষার জন্য নিজেই স্কুল চালু করেছেন মা নাজনীন। তার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলে এখন বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক প্রতিবন্ধী শিশু।
২০২০ সালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মাটিয়া ব্রিজবাজারে দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু হয়ে স্কুলের কাজ। এরপর বিভিন্নজনের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, হুইলচেয়ার বিতরণসহ প্রতিবন্ধী শিশু ও বয়স্কদের থেরাপি দিয়ে আসছে স্কুলটি।
বর্তমানে ১৩২ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বিনাপারিশ্রমিকে পাঠদান করছেন ৫ জন শিক্ষক। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ শিখিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনের উপযোগী করছেন তারা।
বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়ন ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় কোনো রকমে চলছে স্কুলটি। সরকারি সহযোগিতা পেলে স্কুলটি পরিপূর্ণভাবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্কুলের পরিচালক নাজনীন জানান, মূলত প্রথমে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সেই সংস্থার মাধ্যমে শুরু করেন স্কুলের কাজ। তার ছেলের মতো যারা প্রতিবন্ধী, তাদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেন। সবার সহযোগিতা পেলে ভালো জায়গায় পৌঁছাবে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী আছেন। তারা বিনাপারিশ্রমিকে স্কুলটিতে শিক্ষা দিয়ে আসছেন।’
মহারজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মিয়া বললেন, ‘নাজনীন যে কাজ করেছেন তা বিত্তবানরাও করতে পারেননি। তার উদারতা ও মহান কাজের জন্য সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের সাহায্য কামনা করি।’
মুকসুদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে যাতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য সার্বিক সহযোগিতা করবে সমাজসেবা অফিস।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুলের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। উপজেলা প্রশাসন প্রাথমিক পর্যায়ে ৫টি হুইলচেয়ার দিয়েছে। এ ছাড়া স্কুলটি যাতে এগিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’




