কুসংস্কার ছেড়ে হামের টিকা নিতে লাইনে
- শিশুদের নিয়ে মেডিকেল ক্যাম্পে ম্রো, খুমী ও খেয়াং অভিভাবকরা

বান্দরবানে দুর্গম পাড়াগুলোয় মেডিকেল ক্যাম্পে টিকার লাইনে অভিভাবকরা
বান্দরবানে একসময় স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখলেই দূরে সরে যেতেন অনেকে। কুসংস্কার, অশিক্ষা আর ভাষাগত দূরত্বের কারণে ম্রো, খুমী ও খেয়াং জনগোষ্ঠীর বহু পরিবার শিশুদের টিকা দিতে রাজি হতো না। সারা দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বদলে গেছে সেই দৃশ্য। এখন দুর্গম পাড়াগুলোয় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প বসলে শিশুকে কোলে কিংবা কাঁধে নিয়ে স্বেচ্ছায় টিকার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অভিভাবকরা। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গম এলাকায় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ‘মপ-আপ’ কার্যক্রম পরিচালনা, বাদ পড়া শিশুদের হামের টিকাদান এবং হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ফলে উন্নতি হচ্ছে জেলার হামের পরিস্থিতি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরীর ভাষায়, ‘বাদ পড়া প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যেই মপ-আপ কর্মসূচি চলমান থাকবে। কোনো শিশুই যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দুর্গম এলাকাগুলোকে।’
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাইয়ের পর থেকে কোনো শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে দুর্গম এলাকায় পরিচালিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। হামে বেশি আক্রান্ত রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গত ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত মপ-আপ কর্মসূচির আওতায় বাদ পড়া ১ হাজার ৫৭৪ শিশুকে দেওয়া হয়েছে হামের টিকা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একদিকে সচেতনতা কার্যক্রম, অন্যদিকে সাম্প্রতিক হামের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপপরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অং চা লুর ভাষ্য, ‘ভাঙতে শুরু করেছে দীর্ঘদিনের কুসংস্কার। সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যেও প্রান্তিক মানুষগুলো বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে, যা ইতিবাচক।’ তার মতে, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের পাশাপাশি ভাষাগত যোগাযোগের ঘাটতি ম্রো, খুমী ও খেয়াং জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বড় বাধা ছিল।




