রাজশাহী
নৌকাডুবি: দুই দিনেও নিখোঁজ বাবা-ছেলে

ছবি: আগামীর সময়
পদ্মার উত্তাল স্রোত যেন গিলে ফেলেছে একটি পরিবারের দুটি অবলম্বনকে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা আফছার আলী (৬০) ও ছেলে জিয়ারুল ইসলামের (৪০) সন্ধান মেলেনি। নদীর বুকে চলছে ফায়ার সার্ভিসের টানা উদ্ধার অভিযান, আর নদীর তীরে ও বাড়ির আঙিনায় চলছে স্বজনদের নিরন্তর অপেক্ষা।
আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনের খোঁজ মেলেনি। পদ্মার প্রবল স্রোত উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পবা উপজেলার চরখানপুর এলাকার পদ্মার চর থেকে ঝাউগাছ বোঝাই করে নৌকায় ফিরছিলেন আফছার আলী, তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম এবং জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম। বড়কুঠি এলাকার কাছে এসে হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান জাহেরা বেগম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পদ্মার গভীর পানিতে হারিয়ে যান তার স্বামী ও ছেলে। নদীর স্রোতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বড়কুঠি ও আশপাশের সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা জাহেরা বেগম। দুই দিন ধরে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন, হয়তো কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটবে- এই আশায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘পানিতে ডুবে গেলে মানুষ তো ভেসে ওঠে। কিন্তু তাদের তো এখনো পাওয়া গেল না। আল্লাহ জানেন, তাদের সঙ্গে আর শেষ দেখা হবে কি না।’
পবা উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের শান্তিনগরে আফছার আলীর বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। একই পরিবারের দুই সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাড়ির উঠোনে অঝোরে কাঁদছেন আফছার আলীর স্ত্রী ও জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী। বাবাকে ও স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় নির্বাক হয়ে আছে পরিবারের শিশুরাও।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন বললেন, ‘নদীতে স্রোত রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ দুইজনের সন্ধান মেলেনি। আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’






