নাঙ্গলকোটে ছাত্রদলের মিছিলে হামলা, আহত ২০

নাঙ্গলকোটে উপজেলা বিএনপির প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত ছাত্রদল নেতা আমীর হামজা মুন্নাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে বাধা দিতে গিয়ে ঢালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদ আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢালুয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢালুয়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যাওয়ার আগ মুহূর্তে উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন টিপু ও স্বেচ্ছাসেবক নেতা আবদুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলে হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মিছিলে থাকা নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। হামলায় প্রায় ২০ জন আহত হন বলে দাবি করেছেন আহতরা।
আহত ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে আবদুল মমিন, আলী হোসেন টিপু ও আবদুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন। তিনি জানান, দুই পক্ষ একসঙ্গে প্রতিবাদ মিছিল করছিল। মিছিলের শেষ দিকে কেউ একজন সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে কিছুটা হট্টগোল হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







