গজারিয়ায় কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত, ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে ন্যায্য মূল্য না পেলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, এ বছর গজারিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২৬ হাজার ১২৭টি পশু। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৬১৯টি ষাঁড়, দুই শতাধিক বলদ, পাঁচ শতাধিক গাভী, এক হাজার ৭২৮টি ছাগল ছাড়াও রয়েছে ভেড়া ও মহিষ। উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১৭ হাজার ৬০৩টি। ফলে উদ্বৃত্ত পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা।
সোমবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাউশিয়া ও রায়পাড়াসহ বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। তবুও স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু বিক্রির লক্ষ্যে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারি ও কৃষক পরিবারের সদস্যরা।
খামারিদের ভাষ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ভালো দাম না পেলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
খামারগুলোতে এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি কোরবানির পশু পালন করছেন গ্রামীণ পরিবারের অনেকেই। বিভিন্ন হাট ও খামারে দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু দেখা গেছে। খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হলে দেশের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব।
সৌখিন খামারি ও ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান হারুন বলেন, ‘আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গরু রয়েছে। শিকদার মডার্ন এগ্রো ফার্মে বৈদ্যুতিক পাখা ছাড়াই গরু পালন করা হয় ভিটিপাকা টিনের শেডে। ফার্মসংলগ্ন কয়েক বিঘা খোলা মাঠে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঘাস খেয়ে বড় হচ্ছে গরুগুলো।’
কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ‘আমার বাড়িতে গরু রয়েছে ১০টি। এগুলো এবার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য তুলবো। ধারদেনা করে গরু লালন-পালন করেছি। গরু পালন ও কোরবানির ঈদ ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন।’
আওয়ার বাংলা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা জাসাসের আহ্বায়ক হাসান জাহাঙ্গীর প্রধান বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে গরু পালন করছি। খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। ভালো দাম পেতে হলে দেশে উৎপাদিত গরুর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি হলেই সব শেষ।’
চরবাউশিয়ার ফরাজী কান্দীর খামারি নাসির ভান্ডারী জানান, ‘বাজারে সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু পশু বিক্রি করতে গেলে খরচের তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। আমরা সারা বছর এই কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি।’
গজারিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিগান মোল্লা বলেন, উপজেলায় এক হাজার ৩১২টি খামারে পালন করা হচ্ছে কোরবানির পশু। ছোট-বড় খামারের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতেই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু ও ছাগল পালন করা হয়।






