ঈদের আমেজে প্রাণ ফিরছে সিলেটের গরুর হাটে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। শহর ও জেলার বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিনই বেচা-কেনা আগের তুলনায় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদ উপলক্ষে সিলেটে প্রায় ৬০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হাট এরই মধ্যে পুরোপুরি চালু হয়েছে। বাকি হাটগুলোও ধীরে ধীরে কার্যক্রম শুরু করছে।
সাধারণত কাজিরবাজার, লালাবাজার, দক্ষিণ সুরমা ও আশপাশের এলাকার হাটগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্রেতার চাপ দেখা যায়। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময় হাটগুলো সবচেয়ে বেশি জমজমাট হয়ে ওঠে। দেশি গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকায় ভালো মানের পশুর দামও কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
কাজিরবাজার গরুর হাটে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেছেন, ‘এবার গরুর খাবার ও পরিবহন দুই ধরনের খরচই বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতারা হাটে আসছেন। আশা করছি, ঈদের আগের কয়েক দিনে বেচা-কেনা আরও বাড়বে।’
আরেক ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেছেন, ‘এখনো পুরো বাজার জমে ওঠেনি। তবে প্রতিদিনই মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বড় গরুর চাহিদা ভালো।’
হাটে আসা ক্রেতা মো. সোহেল জানিয়েছেন, দাম এখন কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তাই কয়েক দিন ঘুরে দেখে তারপর কিনব। ঈদের আগে শেষ দিকে হয়তো কিছুটা দর কমতে পারে।
গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেছেন, ‘ছোট পরিবারের জন্য মাঝারি আকারের গরু খুঁজছি। কিন্তু ভালো গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তাই সময় নিয়ে বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখছি।’
এদিকে সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে পশু প্রবেশ এবং এর বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, সিলেটের কোরবানির পশুর হাটগুলো ততই জমে উঠছে। ঈদের আগের কয়েক দিনে ক্রেতা সমাগম ও বেচা-কেনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






