২৬ অক্টোবর থেকে লাকসামে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস

২৬ অক্টোবর থেকে লাকসামে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চলাচল শুরু করছে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনটির লাকসাম রেলওয়ে জংশনসহ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। ট্রেনটির যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ মহানগর এক্সপ্রেসের (৭২১ আপ ও ৭২২ ডাউন) চলাচল এবং লাকসামসহ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছিল। ট্রেন দুটির কোথাও যাত্রাবিরতি ছিল না। এবার এ রুটে মহানগর এক্সপ্রেস নামে আরও এক জোড়া ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। নতুন ট্রেন দুটি বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ) লাকসাম জংশনে পৌঁছাবে বেলা ২টা ৪২ মিনিটে। দুই মিনিট বিরতির পর বেলা ২টা ৪৪ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২ ডাউন) রাত ১২টা ২১ মিনিটে লাকসামে পৌঁছাবে এবং রাত ১২টা ২৩ মিনিটে ছেড়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, লাকসাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ১৫টি এবং স্নিগ্ধা শ্রেণিতে ৫টিসহ মোট ২০টি আসন বরাদ্দ থাকবে। শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া ৪১০ টাকা এবং স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৭৮২ টাকা। এরই মধ্যে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সাবেক সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান দুলাল জানিয়েছেন, কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, লাকসাম প্রেসক্লাবের নেতারা ও বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা একাধিকবার মানববন্ধন, সভা ও সমাবেশ করেছেন।
সর্বশেষ গত ১৩ আগস্ট লাকসাম প্রেসক্লাবের নেতারা লাকসাম জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে কক্সবাজার রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী, রেলপথমন্ত্রী ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রাবিরতিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও), অতিরিক্ত বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এডিসিও) এবং অন্য কর্মকর্তারা এরই মধ্যে লাকসাম রেলওয়ে জংশন পরিদর্শন করেছেন।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, লোকোমোটিভ সংকটের কারণে এতদিন এ রুটে নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী ২৬ অক্টোবর মহানগর এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
এদিকে নতুন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান দুলাল, লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আবদুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আল শারাহসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। তারা এ সিদ্ধান্তের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।




