প্রান্তিক প্রচেষ্টা
আমের বিশ্বভ্রমণ
- মেহেরপুর থেকে রপ্তানি ৩৪ দেশে

মেহেরপুরের আমবাগানগুলোয় এখন ব্যস্ততার মৌসুম। গাছে গাছে ঝুলছে সবুজ হিমসাগর আর সেই আম ঘিরে চলছে বিশেষ যত্নের আয়োজন। একসময় দেশের বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল জেলার বিখ্যাত হিমসাগর আম। কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন মেহেরপুরের আম ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুরের আম রপ্তানি হচ্ছে ৩৪টি দেশে।
মেহেরপুরের হিমসাগর আম সম্প্রতি ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে আমটির।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মেহেরপুরের হিমসাগর আমের স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে বিদেশে এর চাহিদা বাড়ছে ক্রমেই। আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কাজ করছে।’
মেহেরপুরের বিভিন্ন বাগানে এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফ্রুট ব্যাগিং। আমের গায়ে বিশেষ কাগজের ব্যাগ পরিয়ে দেওয়া হয়, যা পোকামাকড়, রোগবালাই এবং বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ফলকে।
চাষিদের মতে, এ পদ্ধতির ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসে এবং আম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
মেহেরপুরের সনদপ্রাপ্ত চাষি শাহিনুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আম রপ্তানি করছেন। তিনি জানান, প্রতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তার বাগানের আম যায়।
‘রপ্তানির আগে বিদেশি ক্রেতারা এসে আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা মেনে প্রস্তুত করা হয় আম। এবারও পাঁচ থেকে সাত টন হিমসাগর আম রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছি’— বললেন তিনি।
সুবিদপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল জলিলের ভাষায়, ‘সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি, চীন, জাপান, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের আম যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে আমরা আধুনিক পদ্ধতির প্রশিক্ষণও পেয়েছি।’ জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌরমতি জাতের আমের ফলন হয়েছে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন। যার সম্ভাব্য বাজার দাম ১৬৫ থেকে ১৭০ কোটি টাকার মধ্যে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজিব মৃধা জানিয়েছেন, মেহেরপুরের হিমসাগর এখন শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিত একটি ব্র্যান্ড। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।


