ফায়ার সার্ভিসের নজরে কৃষকের উদ্ভাবন, ডাক পেলেন ঢাকায়

ফায়ার সার্ভিসের নজরে কৃষকের উদ্ভাবন, ঢাকায় আনার উদ্যোগ
নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়া। সম্প্রতি নলকূপে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর সবার মতো নাড়া দিয়েছিল তাকেও। তবে অন্যদের মতো বসে থাকেননি তিনি। নলকূপ বসানোর জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুদের কীভাবে উদ্ধার করা যায়, সেটি উদ্ভাবনে শুরু করেন কাজ।
কয়েক মাসের চেষ্টা ও নিজস্ব চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছেন লোহার বিশেষ এক খাঁচা। এটি সরু নলকূপ বা গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম। বিষয়টি নজরে আসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের।
গতকাল সোমবার রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মঞ্জির হকের নেতৃত্বে একটি দল সরেজমিনে গিয়ে পরীক্ষা করে খাঁচাটির কার্যকারিতা। পরীক্ষার অংশ হিসেবে যন্ত্রটিতে ক্যামেরা ও লাইট যুক্ত করে নামানো হয় প্রায় ২০ ফুট গভীরে।
এর আগেই সেখানে ফেলা হয় ১১ কেজি ওজনের একটি গাছের গুঁড়ি। যন্ত্রটি দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয় গুঁড়িটি, যা উপস্থিত সবার মধ্যে তৈরি করে আশাবাদ।
প্রাথমিক পরীক্ষায় সফল হওয়ায় প্রযুক্তিটিকে আরও উন্নত করতে তারা মিয়াকে জানানো হয়েছে ঢাকায় আমন্ত্রণ।
জানা গেছে, তার উদ্ভাবিত এই যন্ত্র দিয়ে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি ব্যাস এবং প্রায় ২০০ ফুট পর্যন্ত গভীরতায় উদ্ধারকাজ চালাতে সক্ষম। খাঁচাটির নিচে রয়েছে বিশেষ লক ব্যবস্থা, যা গভীরে পৌঁছে শিশুকে নিরাপদে আটকে ফেলতে পারে। পরে রশির সাহায্যে ধীরে ধীরে তুলে আনতে হয় ওপরে।
তারা মিয়ার ভাষ্য, মানুষের হাত মুঠো করার ধারণা থেকেই ভাবনায় আসে এই প্রযুক্তি। কয়েক মাসের চেষ্টায় এটি তৈরি করেন তিনি। তার বিশ্বাস, এই যন্ত্র দিয়ে সরু গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু ছাড়াও যেকোনো প্রাণী জীবিত উদ্ধার করা যাবে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মঞ্জির হক বলেছেন, উদ্ভাবনটি বাস্তবসম্মত এবং সম্ভাবনা রয়েছে কার্যকর হওয়ার। ঢাকায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি উন্নয়ন করলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উদ্ধার কাজে।

