চালুর আগেই নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি, উলিপুরে ৬ কোটি টাকার কৃষিপণ্য কেন্দ্র ৪ বছরেও অচল

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর থেকেই কেন্দ্রটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জনবল সংকট ও নীতিমালা জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এটি চালু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি তারা। ফলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের সুবিধা দিতে নেওয়া সরকারি উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) উদ্যোগে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের চারটি করে মোট আটটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কেন্দ্রগুলো সংশ্লিষ্ট আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এরপরও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কেন্দ্রগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, উলিপুরের কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন অবস্থায় পড়ে আছে। নিরাপত্তার জন্য পাহারাদার রাখা হলেও নিয়মিত কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। কেন্দ্রে ধান, গম ও তেল ভাঙানোর পাশাপাশি মসলা, চিপস, বেকারি, দুধ, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পণ্য সংরক্ষণের জন্য রয়েছে কোল্ড চেম্বারসহ বিভিন্ন সুবিধা। কেন্দ্রটি চালু হলে প্রায় ২০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা। তবে এখনো এর মূল কার্যক্রমই শুরু হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আইনুল ইসলাম, ফুলবাবু মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও তাজিবর রহমানসহ অনেকে জানান, কেন্দ্রটি চালু হলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। বিশেষ করে মৌসুমি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক কৃষককে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার সংরক্ষণের অভাবে অনেক পণ্য নষ্টও হচ্ছে।
কেন্দ্রের পাহারাদার মো. মাসুদ রানা ও রাসেল মিয়া বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব কেন্দ্র পাহারা দেওয়া। এর বাইরে আমাদের করার কিছু নেই।’
উলিপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প সম্পর্কে আমি অবগত নই। এটি কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের প্রকল্প। এর সঙ্গে আমার দপ্তরের সংশ্লিষ্টতা নেই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
কেন্দ্র চালু না হওয়ার বিষয়ে রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একাডেমির আগের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে শুধু পাহারাদার রাখা হয়েছে। নীতিমালা পরিবর্তন করে সমবায়ভিত্তিক সমিতি, এনজিও কিংবা আগ্রহী উদ্যোক্তাকে টেন্ডারের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি এ টি এম আরিফ বলেছেন, ‘কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্রের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাদের ডাকা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রটি চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



