কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্কুলটি জরাজীর্ণ

রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের পাড়াতলী গ্রামে কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্কুলটি
আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক ভিটা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের পাড়াতলী গ্রামে। এই গ্রামেই ১৯৬০ সালে কবির দাদা কলিম উদ্দিনের নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তার বাবা আলহাজ মোখলেছুর রাহমান নান্নু মিয়া। প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক পরও কবির স্মৃতিবিজড়িত পাড়াতলী কলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত।
মেঘনা নদীবেষ্টিত পাড়াতলী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পড়াশোনা করছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সব ক্ষেত্রেই রয়েছে সংকট। জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ শ্রেণিকক্ষের অবস্থা জরাজীর্ণ। বর্ষায় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ে ছাত্রী রয়েছে প্রায় ৪০০। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো কমনরুম। নেই পর্যাপ্ত ও ব্যবহার উপযোগী শৌচাগার এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা। আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ল্যাবও নেই।
পোগোজ স্কুল
২৪ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, চরাঞ্চলের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। রয়েছে শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সবুজ রানা বলেছেন, বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর জরাজীর্ণতার বিষয়টি জানানো হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলকে। একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে তার কাছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামালগীর আলম জানালেন, বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি তারা জানেন। একটি চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে বিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এতে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি সংরক্ষিত হবে কবির স্মৃতিও।








