১৭ বছর ধরে জঙ্গলের ছাউনিতে অসহায় রাহেলার বেঁচে থাকার লড়াই

ঈদের আনন্দ যেখানে সবার ঘরে পৌঁছায়, সেখানে এক টুকরো স্বস্তির আশায় এখনও দিন গুনছেন এক অসহায় নারী। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাটুর বাঁশতলা এলাকার রাহেলা খাতুন। আসন্ন ঈদকে ঘিরে যখন চারপাশে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখন তাঁর জীবনে নেই সেই আনন্দের কোনো ছোঁয়া, ছেঁড়া-ফাটা কাপড়েই কেটে যাচ্ছে দিন।
স্বামী কুদ্দুস প্রামাণিক মারা গেছেন প্রায় ১৭ বছর আগে। এরপর থেকেই স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে একটি ছোট টিনের ছাউনিতে কোনো রকমে বসবাস করছেন তিনি। এই এলাকাটি চারপাশে জঙ্গলঘেরা হওয়ায় রয়েছে বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব।
এখানেই শেষ নয় রাহেলার ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নেই ফ্যান বা আলো। প্রচণ্ড গরমে যেমন কষ্ট, তেমনি শীতের সময়ও কনকনে ঠান্ডায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটছে তার।
রাহেলা খাতুনের নেই কোনো শৌচাগার, নেই টিউবওয়েলও। জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়িতে কাজ করে মাসে মাত্র তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই সামান্য আয় দিয়েই কোনোভাবে চিকিৎসা ও খাবার জোগাড় করছেন। এক হাত প্যারালাইজড হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতেও পারেন না তিনি। তবুও এক হাতেই চলছে তাঁর জীবন সংগ্রামের লড়াই।
স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। তবে এখনো রয়ে গেছে আরও অনেক চাহিদা ও সংকট। অসহায় রাহেলা বেগমের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তার দাবি স্থানীয়দের।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করা রাহেলা বেগম যদি সমাজের বিত্তবান মানুষ কিংবা সরকারি সহায়তা পান, তাহলে তাঁর জীবনের বাকি দিনগুলো কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারবেন এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।






