ময়মনসিংহ
শিক্ষাব্যবস্থায় চরম সংকট জনবলে, বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল খ্যাত ভালুকায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় জনবলে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। স্কুল পরিচালনায়
প্রধান শিক্ষকের অভাব, মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার ঘাটতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বড় ধরনের সংশয়ের পাশাপাশি
গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ভালুকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৬৪টি। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা পঁচিশ হাজার ৯২৪ জন। এসব শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একহাজার ৭১ জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছেন ৯৫৭ জন। ১৬৪ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা।
শুধু বিদ্যালয়ে নয়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সহায়কসহ মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে ছয়টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিন জন। বাধ্য হয়ে অর্ধেক জনবল দিয়ে তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে উপজেলার ১৬৪ টি বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সহায়কের এক মাত্র পদটিও শূন্য।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে কমে যাচ্ছে পাঠদান। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং পাঠদান দুই ক্ষেত্রেই পড়ছে প্রভাব। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে পূর্ণক্ষমতা না থাকায় বিলম্বিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা অসম্ভব। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ না হলে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন একাধিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানালেন, জনবল সংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে। শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহায়কের জন্য মাত্র একটি পদ। বর্তমানে ভালুকায় সেটিও শুন্য। ১১০ জন সহকারী শিক্ষক ও তিনজন এটিও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বললেন, নিয়োগ ও পদায়ন শেষ হলে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কমে আসবে অনেকটাই।
ভালুকার শিক্ষা ব্যবস্থায় জনবল সংকটের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বললেন, অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই চিত্র শুধু ভালুকার না সারা দেশেই একই অবস্থা। দীর্ঘ দিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ার কারণে সংকট প্রকট আকারে ধারণ করেছে। তারপরও অন্যান্য জেলার তুলনায় ময়মনসিংহের অবস্থা কিছুটা ভালো।








