দেবরের হাতুড়ির আঘাতে প্রাণ গেল ভাবির, বাদ যায়নি দেড় বছরের ভাতিজাও

সংগৃহীত ছবি
পারিবারিক কলহের জেরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও তার দেড় বছর বয়সী শিশুকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বড় ভাই নিজেও। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম বাচামারা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন বাচামারা এলাকার আমিনা খাতুন (২৮) ও তার দেড় বছরের সন্তান আসওয়াদ। হামলায় গুরুতর আহত বড় ভাই আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছোট ভাই মো. ইউসুফ পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার কিছুদিন আগে বড় ভাই আবদুস সালামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ছোট ভাই ইউসুফ। শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে ইউসুফ তার ভাবি আমিনা ও শিশু ভাতিজা আসওয়াদের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও সন্তানের মৃত্যু হয়।
এর কিছুক্ষণ পর বড় ভাই সালাম বাড়িতে ফিরলে ইউসুফ তাকেও হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশে আঘাত করেন। সালামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সালাম প্রাণে বেঁচে যান। এ সময় ইউসুফ পালিয়ে গেছেন। পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে গিয়ে বিছানায় আমিনা ও মেঝেতে তার শিশুসন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাই তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও তার শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন। আহত সালাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।







