ভ্রমণের সৌন্দর্য অনেকের জীবিকাও

ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট নৌকা নিয়ে বিলে নামেন আল আমীন গাজী। হাতে বাঁশের লগি। নৌকা ঠেলে এগিয়ে চলেন শাপলার খোঁজে। কয়েক ঘণ্টা পানিতে কাটিয়ে নৌকা ভরে শাপলা নিয়ে ফেরেন ঘাটে। এই শাপলা বিক্রির আয়েই চলে তার পরিবারের অনেকটা খরচ।
বর্ষা এলেই গোপালগঞ্জের সিংগা, চান্দা, মোল্লার বিলসহ শতাধিক বিল-খাল এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়ল বিল ছেয়ে যায় সাদা শাপলায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পানির ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সাদা ফুলের চাদর। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরাও। তবে এই শাপলা শুধু সৌন্দর্যের উপকরণ নয়, বর্ষায় কৃষিকাজ কমে গেলে হাজারো মানুষের জীবিকারও ভরসা।
স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জের শাপলা যায় বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুম জুড়ে শাপলা বিক্রিকে ঘিরে বছরে বাণিজ্য হয় কোটি টাকার বেশি।
মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলেও প্রতিদিন ভোরে শাপলা সংগ্রহ করেন প্রায় ৩০০ কৃষক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ বিন সাদিক জানিয়েছেন, প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি মিনিট্রাকে করে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টন শাপলা যায় ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে এ সংগ্রহ। বাজারে প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকায়।
তবে শাপলার এই বাণিজ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশি লাভের আশায় ফুল পরিপক্ব হওয়ার আগেই কুঁড়ি তুলে ফেলছেন অনেকে। এতে কমে যাচ্ছে শাপলা থেকে বীজ তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ।
আড়িয়ল বিলের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, ‘আগে মাইলের পর মাইল শাপলা ফুটত। এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। কুঁড়ি পরিপক্ব হওয়ার আগেই তুলে নেওয়ায় শাপলার বিস্তার কমছে।’
কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদিক জানিয়েছেন, অপরিণত কুঁড়ি তোলার প্রবণতা চলতে থাকলে একসময় আড়িয়ল বিল থেকে শাপলা কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। শাপলা সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে সমন্বিত কর্মশালারও পরিকল্পনা রয়েছে।







