বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ নামে ৮২ বছরের বিদ্যালয়টিতে

ভিজে যাওয়ার শঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরাতে ব্যস্ত শিক্ষকরা
বৃষ্টি নামলেই শুরু হয় দুর্ভোগ। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে অফিস কক্ষে। ভিজে যাওয়ার শঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। কখনো মাথায় পলিথিন দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। দীর্ঘদিনের অবহেলায় এমন অবস্থায় পৌঁছেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮২ বছরের পুরোনো অফিস ভবনটি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হতেই অফিস কক্ষের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ছে। টেবিল, চেয়ার, আলমারি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র রক্ষায় উপরে দেওয়া হয়েছে পলিথিন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ পারভীন জানিয়েছেন, বৃষ্টি শুরু হলেই অফিস কক্ষে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শিক্ষকরা যেমন ভিজে যান, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের কাছাকাছি অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একটি পাকা অফিস ভবন নির্মাণ হয়নি।
তার ভাষ্য, বহুবার আবেদন করেও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বরাদ্দের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা কিছুটা কমাতে বিদ্যালয়টিকে ঢেউটিন দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।





