রূপপুরের নিরাপত্তা বাড়াতে ইমামদের সহযোগিতা প্রত্যাশা

সংগৃহীত ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পের ভূমিকা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং ভুল ধারণা দূর করতে ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‘কমিউনিটি লিডার রাউন্ডটেবিল’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয় ঈশ্বরদীর পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রে।
আজ বৃহস্পতিবার পাবনা জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রের সহায়তায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান। সভাপতিত্ব করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন এনপিসিবিএলের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিউজজামান।
এ ছাড়া এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপক ও প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম শাহীনুর ইসলামসহ প্রকল্পের পাবলিক কমিউনিকেশন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, কেন্দ্রের আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক অবদান নিয়ে সহজ ভাষায় তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জাহেদুল হাছান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছে ইমামরা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও বিশ্বস্ত। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে, প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে প্রকল্প ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও আস্থা আরও জোরদার হবে বলে তিনি মনে করেন।
মতবিনিময় পর্বে অংশগ্রহণকারী ইমামরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণে প্রকল্পের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্যের প্রসার ঘটাবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আস্থা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ের কার্যক্রম চলছে। সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে এগোলে অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



