খড়ির আগুনেই চলছে সংসার
- সরিষাবাড়ীতে চুলায় গ্যাস নেই

ছবি: আগামীর সময়
প্রায় সপ্তাহ ধরে গ্যাসসংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর বাসিন্দারা। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক পরিবারকে চুলায় আগুন জ্বালানোর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সময়মতো রান্না করতে না পেরে কেউ নাশতা করছেন দেরিতে, কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না খাইয়ে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার গ্যাসের চুলা ছেড়ে খড়ির আগুনে কোনো রকমে জ্বালাচ্ছেন সংসারের হাঁড়ি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। ফলে প্রতিদিনের রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলো পড়েছে বেশি বিপাকে। গ্যাসের অপেক্ষায় দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তিও।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ পারভীন বললেন, ‘সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর জন্য খাবার তৈরি করতে হয়। কিন্তু চুলায় গ্যাস না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
শিমলা বাজারের বাসিন্দা হাবিবুল হাসান রিজভী বললেন, ‘এক কাপ চা তৈরি করতে ৪০ মিনিট লাগছে। এ অবস্থা কতদিন চলবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক কাপ চা বানাতে যেখানে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেখানে ভাত, তরকারিসহ অন্যান্য রান্না শেষ করতে আরও বেশি সময় লাগছে। ফলে অনেক বাড়িতেই গ্যাসের চুলা থাকলেও নিয়মিত রান্না হচ্ছে খড়ি কিংবা বিকল্প জ্বালানিতে। বাড়ির উঠানে জমছে খড়ির স্তূপ, আবার কোথাও জ্বলছে অস্থায়ী চুলা।
গ্যাসসংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবারের ব্যয়েও। বিকল্প জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে রান্নার জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রান্নায় অতিরিক্ত সময় লাগায় কর্মজীবী মানুষের কাজের সময়সূচি ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাসের এ সংকটে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন, গ্যাসের সংযোগ ও চুলা থাকার পরও যদি রান্নার সময় গ্যাস না মেলে, তাহলে এই ব্যবস্থার সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে?
তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপক দুর্জয় খকসী বললেন, ‘এটি জাতীয় সমস্যা। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে আমরাও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।’






