নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রসুলপুর খাদ্যগুদাম

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর সরকারি খাদ্যগুদামে সাতটি নিরাপত্তা প্রহরীর পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন দুজন। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি স্থাপনাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলদী নদীর তীরঘেঁষা রসুলপুর সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাতজন প্রহরীর কাজ করতে হচ্ছে মাত্র দুজনকে। এর মধ্যে একজন নিরাপত্তা প্রহরী মো. জসীম উদ্দিনকে গুদাম কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজও করতে হয়।
খাদ্যগুদাম পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী সাতজন নিরাপত্তা প্রহরী পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন খালি রয়েছে পদগুলো। ফলে দুজন প্রহরীকে ১২ ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে দুই শিফটে। তার ভাষ্য, এভাবে গুদামের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, গুদামে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা হলেও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন ঝাড়ুদার। এ ছাড়া উপসহকারী খাদ্য কর্মকর্তা (এএসআই) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে একজন পরিদর্শককেই গুদামের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় অরক্ষিত থাকে খাদ্যগুদাম কমপাউন্ডের বিভিন্ন অংশ। গুদামের বিভিন্ন স্থাপনায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও সব সময় সচল থাকে না।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনায় দ্রুত জনবল নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের দিকে গুদামের প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে একাধিক বহিরাগত নারী-পুরুষকে অবাধে চলাফেরা করতে। তাদের কেউ কেউ গাছ থেকে ঝরে পড়া জাম সংগ্রহ করছিলেন।
এদিকে রসুলপুর খাদ্যগুদামের কম্পিউটার অপারেটরের পদও কয়েক বছর ধরে শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
গজারিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. সাজোয়ার রহমান জানিয়েছেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক ও উপখাদ্য পরিদর্শকের দুটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। পুরো কার্যালয়ে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন মাত্র দুজন।





