শরণখোলা
মাদকবিরোধী অভিযান চালানোয় ওসির বিরুদ্ধেই অভিযোগ কারবারিদের

শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে মাদক কারবারিদেরই রোষানলে পড়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম।
গত ২ আগস্ট শরণখোলার শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদার ও তার সহযোগী সোহাগকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০ জন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর থেকেই ওসি রোকেয়াকে জড়িয়ে অপপ্রচার শুরু করেন এলাকার অন্যান্য মাদক কারবারি, তাদের সহযোগী এবং সুবিধাভোগী ও চাঁদাবাজরা। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম মুসা নামের এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে নানারকম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় নেমে পড়েন।
এমনকি মুসা নিজে বাদী হয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করেন ওসির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ওসি রোকেয়া বললেন, গত ৫ জুলাই শরণখোলা থানায় যোগদান করেই মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছি। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ওসি দাবি করেন, শফিকুল ইসলাম মুসা নিজেই একজন মাদকের ডিলার। তিনি নির্বিঘ্নে তার মাদক কারবার পরিচালনার জন্য নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো র্যাব ও পুলিশের সোর্স পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে আদায় করতেন নিয়মিত চাঁদা। গ্রেপ্তার ইলিয়াস জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তিনি একাই প্রতিমাসে পুলিশের সোর্স জেনেই ৬০ হাজার টাকা দিতেন এই মুসাকে।
ওসি রোকেয়ার ভাষ্য, মুসা নামে শরণখোলা থানা পুলিশের কোনো সোর্স নেই। তিনি নিজেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে কৌশল হিসেবে মোবাইল ফোনে তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা চাওয়া হয়েছিল। সেই ফোনালাপের রেকর্ডকৃত একটি অংশ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে যতই ষড়যন্ত্র বা হুমকি আসুক, অব্যাহত থাকবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান।
এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত ও সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন বললেন, ওসি রোকেয়া খানম যোগদানের এক মাসের মধ্যেই যেভাবে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন, তা প্রশংসনীয়। নারী হয়ে তিনি যা করছেন তা অনেক পুরুষ ওসির পক্ষেও করা অসম্ভব।
অভিযোগ অস্বীকার করে শফিকুল ইসলাম মুসা জানালেন, আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময় মাদক এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রচার করেছি। এতে তারাও আমার ওপর ক্ষিপ্ত।
এদিকে পুলিশও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার, যোগ করেন তিনি।







