মাহদীকে নিয়ে রাতেও কাটেনি ধোঁয়াশা, সিদ্ধান্ত আজ

বৈছাআর সদস্যসচিব মাহদী হাসান
হবিগঞ্জে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে নিয়ে রাতেও কাটেনি ধোঁয়াশা। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে, নাকি হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, তা জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে মাহদীকে সদর মডেল থানায় নেওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে মাহদীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে।
রাতে মাহদীর বাবা তৈয়ব আলীকে থানায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া আরও তিন তরুণও মাহদীর সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
গতকাল বিকালে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন মাহদীসহ অন্যরা। কর্মসূচিস্থলে সদর মডেল থানার পুলিশ গিয়ে মাহদীকে তাদের সঙ্গে যেতে অনুরোধ করে। তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করলে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
২১ বছর বয়সী মাহদী পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। ওই বছরের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মাহদী। পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকার কারণে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপর মাহদী তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে নয়নকে আটকের কারণ জানতে চান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দিয়েছেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে এ ঘটনায় সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ মাহদীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি।







