আদমদীঘিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার সর্বনিম্ন ৮ সর্বোচ্চ ৫৭

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার আটটি কলেজ থেকে এবার মোট এক হাজার ৪৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৪১৩ জন। সে হিসাবে উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আটটি কলেজের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
কলেজভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহার সরকারি কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি ৮৯৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২৬৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন। কলেজটির পাসের হার ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
উপজেলা সদরের রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২৫ জন। কলেজটির পাসের হার ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
উপজেলা সদরের হাজী তাছের আহমেদ মহিলা কলেজের ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪৯ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
সান্তাহার মহিলা কলেজ থেকে ৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৭ জন। একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কলেজটির পাসের হার ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নসরতপুর কলেজের ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৯ জন। একজন জিপিএ-৫ পেলেও কলেজটির পাসের হার ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
উপজেলা সদরের আদমদীঘি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৫ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
অন্যদিকে, সান্তাহার বীর বিক্রম শহীদ লেফটেন্যান্ট আহসানুল হক ডিগ্রি কলেজের ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটির ৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ছয়জন। পাসের হার ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা উপজেলায় সর্বনিম্ন। এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
তবে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লির চাঁপাপুর জালাল উদ্দীন আহমেদ কলেজ তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৬ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা উপজেলায় সর্বোচ্চ। তবে এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
সামগ্রিকভাবে আদমদীঘি উপজেলার আটটি কলেজের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। বিশেষ করে কয়েকটি কলেজের ফলাফল উদ্বেগজনক। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভালো ফল নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।



