খাগড়াছড়িতে বন ও প্রাণের উৎসব

বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬। ছবি: আগামীর সময়
খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬’। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে যাওয়া পিটাছড়া ফরেস্ট ও বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ইনিশিয়েটিভ আয়োজন করে এ উৎসবের।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দেশীয় খেলা হাড়ি ভাঙ্গা খেলার মাধ্যমে উৎসবটি উদ্বোধন হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ সকলে। সকলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, খেলায় অংশগ্রহণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলে এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবেশবাদীরা অংশ নেন। তবে মাঝপথে বৃষ্টির বাধায় প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয় অনুষ্ঠান।
হাড়ি ভাঙ্গা খেলা ও পিচ্ছিল বাঁশে উঠা প্রতিযোগিতার পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় পাহাড়ি শিল্পীদের পরিবেশনায়। বৃষ্টি থামার অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ড. জিনাত মাহরুখ বানু, অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, রাঙ্গামাটির বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার, খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং মারমা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ আহমেদ রাসেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, আমরা প্রকৃতির ওপর অনেক অত্যাচার করেছি। এখনো করছি। এর ফলে অকালে বৃষ্টি, বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। পিটাছড়া হাঁটছে এর বিপরীতে। বন, পশু-পাখি রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ।
রাঙ্গামাটির বন সংরক্ষক আবদুল আউয়াল বলেন, বন বিভাগও এসব নিয়ে কাজ করে। পিটাছড়া ফাউন্ডেশনও সেই কাজ করছে। তবে, পাশাপাশি তারা স্থানীয়দের নিয়েও কাজ করছে। এটা খুবই প্রশংসশনীয়।
আলোচনা শেষে তিন সংগঠন ও ব্যক্তিকে পিটাছড়া পরিবেশ পদক ২০২৬ দেওয়া হয়।
‘প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সন্মাননা’ পেয়েছে হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গ নামক একটি সংগঠন। ‘পরিবেশবান্ধব সমাজ উদ্যোগ সন্মাননা’ দেয়া হয় রিতু পারভিন এবং ‘প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ সন্মাননা’ দেওয়া হয় সোহেল শ্যামকে।
২০১৬ সাল থেকে খেদাছড়া এলাকায় বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের জন্য কাজ করে আসছে পিটাছড়া ফাউন্ডেশন। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয় সংগঠনটি।



