আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ব্যাপক নিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশ নারী হওয়ায় গ্রামীণ পর্যায়ে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার সেবা আরও জোরদার হবে।
প্রত্যেক গ্রামে গর্ভবতী নারীদের জন্য স্ট্যান্ডবাই কেয়ারগিভার রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তার ভাষায়, প্রসূতিদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রতিরোধে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারগুলো নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা ক্যাম্পেইন না করায় দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংগ্রহ করা হয় এবং দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
মন্ত্রী বলেছেন, সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে এরইমধ্যে এক লাখের বেশি স্যালাইন মজুদ করা হয়েছে। যাতে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত দুরবস্থার স্বীকার করে মন্ত্রী বলেছেন, অনেক হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও যন্ত্রপাতির পরিকল্পনা করা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা রেডিওথেরাপির মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এসব অনিয়ম ও অপচয়ের দায় তিনি আগের সরকারের ওপর চাপান। একইসঙ্গে জানান, দেশের পুরোনো হাসপাতালগুলো আধুনিকায়নের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থারও কঠোর সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় টেন্ডার থেকে শুরু করে নিয়োগ ও বেতন বিতরণ পর্যন্ত একাধিক স্তরে দুর্নীতি হয়। ফলে বর্তমান সরকার এই পদ্ধতি বন্ধে উদ্যোগ নেবে।








