ব্রাজিলের ৮০০ হাত দীর্ঘ পতাকায় রঙিন এক গ্রাম

ছবি: আগামীর সময়
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে গেছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আবেগকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা আয়োজন। এরই অংশ হিসেবে মাদারীপুরের একটি গ্রামে ব্রাজিলের প্রায় ৮০০ হাত দীর্ঘ একটি বিশাল পতাকা তৈরি করে টাঙিয়েছেন স্থানীয় সমর্থকেরা। এতে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়াচর গ্রামে স্থানীয় বাবু একাডেমির ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চরমোগুরিয়া-নয়াচর ব্রিজ থেকে কুমারটেক এলাকার সড়কের পাশ জুড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলছে বিশাল সবুজ-হলুদ পতাকা। দূর থেকে পুরো এলাকাকে ব্রাজিলের রঙে রাঙানো মনে হয়।
পতাকা তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা ও বাবু একাডেমির সদস্য সফিউল আলম জানিয়েছেন, ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে গ্রামের তরুণদের মধ্যে ফুটবলপ্রেম আরও ছড়িয়ে দিতে এবং আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
আয়োজক কমিটির সদস্য তন্ময় জানালেন, প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৫ থান কাপড় ব্যবহার করে পতাকাটি তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের তরুণেরা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে পুরো কাজ সম্পন্ন করেছেন। কাপড় কেনা, সেলাই করা এবং রাস্তার পাশে টাঙানোর কাজও তারা নিজেরাই করেছেন।
বর্তমানে চরমোগুরিয়া ব্রিজ থেকে কুমারটেক ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে পতাকাটি টাঙানো রয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এটি দেখতে আসছেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন, ফলে গ্রামটির পরিচিতিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এটি পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি করেছে এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে।
শুধু ব্রাজিল সমর্থকেরাই নন, আর্জেন্টিনা সমর্থকেরাও বিশ্বকাপ ঘিরে সমান উচ্ছ্বসিত। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি। স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক নাহিদ হাসান হাস্যরস করে উল্লেখ করেছেন, পতাকা যত বড়ই হোক, বিশ্বকাপের ট্রফি নাকি এবার আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে। তবে তিনি ব্রাজিল সমর্থকদের এই উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার আগেই দক্ষিণ নয়াচরের এই আয়োজন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং উৎসবের অংশ।




