গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচ ইউনিট বন্ধ, কর্মহীন আড়াই হাজার শ্রমিক

গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার এলাকার লিথী গ্রুপের পাঁচ ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে সেখানে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) থেকে বন্ধ কার্যকর করা হয়। কারখানার পরিচালক মনিরুজ্জামান বন্ধের বিষিয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (৩০ জুন) প্রধান ফটকে কারখানা বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
লিথী গ্রুপের বন্ধ হওয়া পাঁচটি ইউনিটগুলো হলো অ্যাপারেল-২১., ফমকম ফ্যাশন লি., ফমকম ডাইং লি., ফমকম প্রিন্টিং লি. এবং ফমকম নিটিং লি.।
এদিকে কারখানা বন্ধ হলেও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে কারখানা সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সমঝোতার মাধ্যমেই তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানান কারখানার পরিচালক মনিরুজ্জামান।
কারখানা বন্ধের নোটিশে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেন, গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশের পূর্বাভাস না থাকা, বিগত বছরগুলোতে বার বার অযৌক্তিক শ্রম আন্দোলন হওয়া, পণ্যের বিক্রয় মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়া, সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ার কারণে কারখানাগুলো বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হয়ে আসছে। মালিকপক্ষের কারখানা পরিচালনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বললেন, লিথী গ্রুপের সকল কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংকট কাটাতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
অপরদিকে, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে লিথি গ্রুপের ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বন্ধ কারখানা চালু ও বকেয়া বেতনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় কারখানার পাশে শ্রমিকরা মানববন্ধন করেন।
শ্রমিকদের ভাষ্য, আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত ৭ জুন থেকে ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ২৩ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারেনি।
তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানালেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে টঙ্গীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






