মাধবপুর
পাহাড়ি ঢলে খাল-ছড়ার পাড়ে ভাঙন, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি-সড়ক

মাধবপুরে পাহাড়ি ঢলে খালের পাড়ে ভাঙন— সংগৃহীত
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ছড়া ও খালের তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকার বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের খামার, সড়ক এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চৌমুহনী ইউনিয়নের মনতলা-ভবানীপুর (তেমুনিয়া) এলাকা। সেখানে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে খালের পাড় ধসে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাহিম মিয়া জানান, তার বসতঘরসহ প্রতিবেশী আরও তিনটি পরিবারের ঘরবাড়ি স্রোতে ভেঙে গেছে। পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও উপড়ে পড়েছে। এতে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খালভাঙনের খবর পেয়ে বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ আরও অনেকে। পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বললেন, ‘ভবানীপুরের নতুন খালের প্রবল স্রোতে পাড় ভেঙে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি, সুরমা চা বাগান, চণ্ডিছড়া ও রামগঙ্গা এলাকার একাধিক স্থানে সড়ক ভাঙন ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ চললেও অব্যাহত বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বললেন, ‘গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও সড়কভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষা ও সংস্কারকাজ অব্যাহত।
মাধবপুরের ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে খালভাঙন প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





