বড়দের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, পানি ভেঙে স্কুলে শিশুরা

নগরীর পাঁচলাইশের আহম্মদ মিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা, পাঠদান বন্ধ — রনি দে
টানা বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার মধ্যেও চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ না করায় শিশুদের নানা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।
চট্টগ্রামে গত চারদনি ধরে টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ চলছে। সোমবার থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ওঠে। মঙ্গলবার ও আজ বুধবার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। দোকানপাট, বাড়িঘর এমনকি স্কুলেও পানি ঢুকেছে। পাঁচলাইশ, বড় গ্যারেজ, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, আকবরশাহ সহ বেশ কিছু জায়গায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে।
নগরের পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আহম্মদ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুসুম কুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী তাফসির নাসিমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। এসব বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিশুরা সকালে স্কুলে এসে ঘুরে যাচ্ছে। শিক্ষকরা প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত হন।
স্কুল বন্ধের লিখিত কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধু নগর নয়, বিভিন্ন উপজেলার রাস্তাঘাট এবং স্কুল পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি মিলে চার হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, স্কুল বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। কিন্তু বৃষ্টি ও পানি ভেঙে শিশুদের স্কুলে আসতে কষ্ট হচ্ছে। ভিজে যাচ্ছে। আবার স্কুলে এসে পানিতে বসে থাকতে হচ্ছে। তবে পানি বেশি হলে আমরা ছুটি দিয়ে দিচ্ছি।
কুসুমকুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ও বন্ধ করা হয়নি। স্কুলের এক শিক্ষক জানান, মাউশি থেকে বাতিল করা হয়েছে সব ক্লাস পরীক্ষা। বাদ হয়েছে আজকের এইচএসসি পরীক্ষাও কিন্তু প্রাইমারি স্কুল নিয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা দেয়া হয়নি যা শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলছে।
অভিভাবকদের কেউ সন্তানকে কোলে, আবার কেউ হাত ধরে পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে নিতে দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ভেজা পোশাক ও জুতা নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে বাধ্য হয়েছে।
শিশুদের এভাবে বৃষ্টির মধ্যে স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদেরও অনীহা। স্কুল বন্ধ না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। বৃষ্টিতে ভিজে পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কোমরসমান পানি ঠেলে স্কুলে যাওয়া শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা।
রুমানা আকতার নামে চকবাজারের এক অভিভাবক জানান, বড়দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু শিশুদের স্কুলে যেতে বাধ্য করা কোনোভাবে উচিত নয়। এটা একটা অদূরদর্শী কাজ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানালেন, স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। কোনো স্কুলে যদি পানি উঠে থাকে তবে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে তালিকা করছি। পাঠদান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সব স্কুলে তো পানি ওঠেনি।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের আজকের এইচএসসি ও সমমানের (ইংরেজি ২য় পত্র) পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অনেক বেসরকারি স্কুল কলেজও। জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও স্থগিত করেছে আজকের ক্লাস-পরীক্ষা।
চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ জানান, মাধ্যমিক স্কুলগুলোর সকল পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এটা করা হয়েছে।





