তীব্র দাবদাহে ঝরছে লিচুর গুটি, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
গত দুই সপ্তাহ জুড়ে তাপমাত্রার পারদ ওঠা-নামা করছে ৩৫-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র দাবদাহ ও খরায় একদিকে যেমন অতিষ্ঠ জনজীবন, অপরদিকে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু চাষিরা। তীব্র খরায় অতিরিক্ত লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় এখন কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
বর্তমানে কৃষি কর্মকর্তা ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানগুলোতে স্প্রে ও সেচ দিয়ে গুটি ঝরে পড়া রোধের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন চাষিরা। তবে পরিচর্যা করেও গুটি ঝরে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না বলে জানান তারা।
সরেজমিন উপজেলার মিরকামারী, জয়নগর, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, চরসাহাপুর, সাহাপুর, আওতাপাড়া ও বাঁশেরবাদা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩১০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এভাবে খরা ও দাবদাহ চলমান থাকলে ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন কমে যেতে পারে ৩০ শতাংশের বেশি ।
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি মোস্তফা জামান বিশ্বাস নয়নের ভাষ্য, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বাগানগুলোতে তুলনামূলক বেশি লিচুর মুকুল এসেছিল। ভেবেছিলাম বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে। তবে তীব্র খরায় লিচুর গুটি ঝরে যাওয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল ওরফে ‘লিচু কিতাব’ জানান, একদিকে যেমন তীব্র খরায় লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে, অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা যথাযথ পরিচর্যা করতে পারছেন না। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, ঈশ্বরদীতে গত ১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.০৮ ডিগ্রি থেকে ৩৮. ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন স্পষ্ট করেন, ‘প্রথমদিকে গাছে গাছে ভালো মুকুল থাকলেও তীব্র দাবদাহে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বাগানগুলোতে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

