শিশু হত্যায় কারাদণ্ড, ফ্রি ফায়ার-পাবজি সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ

ফাইল ছবি
মেহেরপুরের গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শিশু আবির হত্যা মামলায় দুই কিশোর আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৫ লাখ করে জরিমানাও দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশে ফ্রি-ফায়ার ও পাবজি গেমের সব ধরনের অ্যাপ সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দেন বিচারক।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় দেন। এসময় আদালতে ছিলেন দুই আসামি। তাদের একজনকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের এবং অন্যজনকে দেওয়া হয়েছে ৭ বছরের কারাদণ্ড।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এসব জানিয়েছেন। শিশু আইনে এটি সর্বোচ্চ সাজাগুলোর একটি বলেও জানান তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন গাংনীর মিনাপাড়া গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার দুই কিশোর বন্ধু। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে তার প্রবাসী বাবাকে কল করে চাওয়া হয় এক লাখ টাকা মুক্তিপণ।
পরিবার ঘটনাটি ৯৯৯-এ জানালে পুলিশের অভিযানে আটক হন দুই আসামি। তাদের দেওয়া তথ্যে সেদিন রাত ১২টার দিকে পাশের মানিকদিয়া গ্রামের পাটক্ষেতে পাওয়া যায় আবিরের হাত-পা বাঁধা মরদেহ। পরে আবিরের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তারা আবিরকে হত্যা করেন।
আবির চুয়াডাঙ্গা সদরের শরিষাডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুুজ্জামানের ছেলে। তার মৃত্যুর পর মা রোজিনা খাতুনকে তালাক দেন আবিরের বাবা। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন রোজিনা। সন্তান হত্যার বিচারে সন্তুষ্ট তিনি।
একটি রিট আবেদনের পর ২০২১ সালের আগস্টে তৎকালীন সরকারকে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক অনলাইন গেম এবং পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো অ্যাপ বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
আদালত একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছিলেন কেন টিকটক, লাইকি, বিগো লাইভ, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ারের মতো অনলাইন গেম এবং অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করা হবে না এবং এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
সিঙ্গাপুরের পাবজি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রক্সিমা বেটা পিটিই লিমিটেডের হাইকোর্টের এই আদেশ বাতিল চেয়ে একটি রিট আবেদন করে। পরের বছর সেই রিট আবেদন আজ খারিজ করেন হাইকোর্ট।








