যমুনার প্রবল স্রোতে ভাঙন ঝুঁকিতে তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

যমুনা নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙনের মুখে পড়ে টাঙ্গাইলের তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে মহাসড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। এর মধ্যে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অন্যদিকে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি গত রাত থেকে যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙনের মুখে পড়ে। ফলে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত রাত থেকেই যমুনা নদীর ভয়াল আগ্রাসনে তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছ কেটে নদীর স্রোতের মুখে ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, প্রতিবছর নদীশাসনের নামে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। যমুনা নদীকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেছেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকায় সকাল থেকেই শ্রমিকরা জিওব্যাগ ফেলছেন। তবে আমরা স্থানীয়রা গত রাতেই নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি ছিল সাময়িক উদ্যোগ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে জিওব্যাগ কোনো কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যার সময় এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। গত বছরও মহাসড়কের কয়েকটি অংশে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।’
স্থায়ী বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেছেন, ‘যমুনা নদী কয়েকদিন ধরেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। টাঙ্গাইলের তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাসড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এ কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু এর মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’
স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানিয়েছেন, তারাকান্দি মহাসড়কের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে যমুনার তীব্র স্রোত আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তের মধ্যে গোপালপুরের শাখারিয়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, যোগাযোগব্যবস্থাসহ সার্বিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেছেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব অংশ সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে।’
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল মোর্শেদ বলেছেন, ‘ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। গতকাল টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আজও তিনি মহাসড়কটি পরিদর্শন করেছেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বিকল্প সড়ক দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। মানুষের সাময়িক ভোগান্তি যত দ্রুত সম্ভব লাঘব করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’




