জামালপুর
বিএনপি নেতাকে ভিজিএফের কার্ড তুলে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ভিডিও থেকে সংগৃহীত
জামালপুরে দরিদ্রদের ভিজিএফ কার্ড বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে চলছে বিতর্ক।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটেছে এ ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা পলাশ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। নির্বাচিত চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
সোহেল রানা পলাশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তার নিজ কক্ষে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে ভিজিএফ ৪ হাজার ২৪ কার্ড তুলে দিচ্ছেন এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে।
দুই মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক বান্ডিল ভিজিএফ কার্ড উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির হাতে তুলে দিচ্ছেন তিনি।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘উপরের নির্দেশনা মোতাবেক বরাদ্দকৃত কার্ড আমি উপজেলা সিনিয়র সহ-সভাপতির কাছে হস্তান্তর করলাম। এতে আমাদের এই ইউনিয়ন পরিষদের ওপর যেন কোনো চাপ না আসে। এ চাপ থেকে বঞ্চিত রাখবেন আমাকে।’
অভিযোগ উঠেছে, এ কার্ড হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নে এবার হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে সুবিধাভোগী পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সেই হিসাবে ইউনিয়নে ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে এই কার্ড বিতরণ করার কথা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেছেন, ‘ভিজিএফের চাল আসে গরিব মানুষের জন্য, কোনো দলের জন্য না। চেয়ারম্যান যদি অর্ধেক কার্ডই দলীয় নেতাদের হাতে দিয়ে দেন, তবে আমাদের মতো সাধারণ গরিব মানুষ চাল পাবে কীভাবে?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ ভিডিওতে বলা কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, ‘দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের বরাদ্দকৃত কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিলাম, এতে যাতে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেছেন, ‘দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের কার্ড যাতে গরিব অসহায় ব্যক্তিরা পান, সে বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মাত্র।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাবিবুর রহমান সুমনের ভাষ্য, ‘নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে কার্ড হস্তান্তরের কোনো বিধান নেই। আমরা খতিয়ে দেখছি বিষয়টি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বললেন, ‘সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের আইনি সুযোগ নেই। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।’




