রাজবাড়ী
ডোজ মেপে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ!

ছবি: আগামীর সময়
প্রচণ্ড গরমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, তখন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মিলছে অর্ধেকেরও কম। ফলে রাজবাড়ীতে অনেকটা ডোজ মেপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। আর বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা।
একেবারে ঘণ্টার কাছাকাছি মেপে মেপে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ। বুধবার রাত ১২:৪৭ → ১:৪৫ = ৫৮ মিনিট লোডশেডিং, বৃহস্পতিবার ৭:১৫ → ৮:১০ = ৫৫ মিনিট, ১০:২৪ → ১১:২০ = ৫৬ মিনিট, ১২:৪৫ → ১:৪০ = ৫৫ মিনিট, প্রায় প্রতিবারই ৫৫–৫৮ মিনিট করে বিদ্যুৎ বন্ধ!
বিদ্যুৎ সরবরাহের এ সংকটে ওয়েল্ডিং, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার, ফটোকপি, ছোট-বড় বিদ্যুৎচালিত কারখানার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়ীদের বসে থাকতে হচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে তাদের। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করা হলে দুর্ভোগ কিছুটা কম হতো। কিন্তু দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নারুয়ার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সবুর মোল্যা বলেন, দিনে-রাতে সমান তালে লোডশেডিং হচ্ছে। ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। একদিকে গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং সব মিলিয়ে হাফিয়ে উঠেছি। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমলেও বিল বাড়ছেই।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন বালিয়াকান্দি বাজারের ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, আমার ব্যবসার পুরো কাজই বিদ্যুৎনির্ভর। কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। বুধবার রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘণ্টা মেপে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং। এতে ব্যবসায় চরম লোকসান হচ্ছে।
ওয়ার্কশপ মালিক সুমন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকলে শ্রমিকদের নিয়ে বসে থাকতে হয়। দিন শেষে শ্রমিকদের বেতন ঠিকই দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
স’মিল ব্যবসায়ী বলেন, গাছের গুঁড়ি তুলতেই বিদ্যুৎ হাওয়া, আবার বিদ্যুৎ আসলেও রেডি হতে হতে আবার লোডশেডিং।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, রাজবাড়ীতে আমাদের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। শহরে ১৪টি ফিডার রয়েছে। এক ঘণ্টা থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। পিক আওয়ারে এক ঘণ্টা এবং অন্যান্য সময়ে আধা ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল এলাকায় তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হয়। অন্যান্য এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাতে রাজবাড়ীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৩০ মেগাওয়াট। দিনে চাহিদা প্রায় ৪০ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ২৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী গোলাম আহম্মদ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। দিনে চাহিদা প্রায় ৪০ মেগাওয়াট থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ২৬ মেগাওয়াট। রাতেও প্রায় একই অবস্থা। দিনের সময় অনুযায়ী চাহিদার কিছুটা হেরফের হয়। আমরা প্রতিটি এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া গেলে লোডশেডিং কমে যাবে।








