সুন্দরবনে জেলে নিহতের ঘটনায় হামলা-ভাঙচুর, এক সপ্তাহ পর মামলা

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে কাঁকড়া ধরার সময় বনকর্মীর গুলিতে এক জেলের মৃত্যুর ঘটনায় বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও বনকর্মীদের মারধরের অভিযোগে এক সপ্তাহ পর মামলা হয়েছে। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। তিনি চট্টগ্রামের জোবায়গঞ্জ উপজেলার মিঝিগ্রামের আহন্দে রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে ভোরে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোষ্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় একটি জেলে ট্রলার দেখে বনবিভাগের টহল দল সেটিকে থামার সংকেত দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ট্রলারটি সংকেত অমান্য করলে বনকর্মীরা গুলি চালান। এতে গাবুরা ইউনিয়নের আমিনুর রহমান নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
পরে দুপুরে আমিনুর রহমানের মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মরদেহ নিয়ে বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন স্টেশনের ভেতরে ঢুকে ভবন ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলেছার আলী ও ফয়জুর রহমান নামে পাঁচ বনকর্মী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত বনকর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় গাবুরার আবুল কালাম, ইয়াছিন আরাফাত ও আবরিয়া হোসেনসহ ২৩ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক অনিরুদ্ধ রায় জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






