সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পঞ্চবটি-মুক্তারপুরের দোতলা সড়ক

সংগৃহীত ছবি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার উড়াল সড়কের দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে ৫৮৬টি সড়কবাতি। এসব বাতি সৌরশক্তিতে জ্বলবে। এতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
বুধবার প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, প্রকল্প পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক (মওই) আঞ্জুমান আরা, উপপরিচালক (মওই) মো. মাসুদ রানা শিকদারসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ উল্লেখ করেছেন, “বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বিশেষ নির্দেশনা সরকার দিয়েছে, এই প্রকল্পে তার সফল বাস্তবায়ন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পের সড়কবাতিগুলো সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে বাতি জ্বালানো হলে স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে দৈনিক ১ হাজার ১৭২ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এতে মাসে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং বছরে প্রায় ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ২০৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বছরে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯২০ ইউনিট বিদ্যুতের চাপ কমবে।
মোহাম্মদ আবদুর রউফের ভাষ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রকল্পটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ দ্রুত ও সুচারুভাবে শেষ করার নির্দেশনা দেন সেতু বিভাগের সচিব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।



