‘তোর সাথে কথা শেষ হলেই বিষ খাবো’, সহকর্মীকে বলেছিলেন রানা

ফাইল ছবি
‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছি আত্মহত্যা করব। তোর সাথে কথা শেষ হলেই বিষ খাবো’, ফোনে সহকর্মী সাখাওয়াত হোসেনকে বলেছিলেন রানা। তারপর কথামতো করেছেন কাজও। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মধ্যরাতে মারা যান তিনি।
মেহেদী হাসান রানা (৩৫) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জংগল ইউনিয়নের অলংকারপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুর রহিম মোল্লার বড় ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে গত শনিবার বিষপান করেন তিনি।
বিষপানের আগে সহকর্মী সাখাওয়াতের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল রানার। সেই কথোপকথনের বর্ণনায় সাখাওয়াত জানিয়েছেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রানা আমাকে ফোন করে। বলেছিল— সবার থেকে তোকে বেশি ভালোবাসি, এজন্যই বলছি— আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি আত্মহত্যা করব। আমি এখন লিয়াকত আলী স্কুলের পেছনে আছি, তোর সাথে কথা শেষ হলেই বিষ খাব। তোদের সাথে কোনো ভুল করে থাকলে আমাকে মাফ করে দিস।’
কাঁপা কণ্ঠে সাখাওয়াত বলেছিল, ‘আমি বারবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি— দরকার হলে আমার বাসায় এসে থাক। ঢাকায় গিয়ে কাজ কর, তোর দুটি সন্তান আছে। এমন কাজ করিস না। কিন্তু সে বারবার বলেছিল— আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলছি, বোতল আমার হাতে।’ রানা ফোন কেটে দিলে সবাইকে জানিয়েছিলেন সাখাওয়াত। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
স্থানীদের ভাষ্য, রানা নারুয়া বাজার থেকে বিষ কিনে পান করেন শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে মৃত্যু হয় তার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন রানা। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল তার। এ ছাড়া ছিল কিছুটা মানসিক সমস্যাও। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. রব তালুকদার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে; চলমান রয়েছে আইনি প্রক্রিয়া।

