ঈদযাত্রা
চন্দ্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখো ঘরমুখো মানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। পরিবহন সংকটের কারণে বিভিন্ন রুটে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চন্দ্রা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ সড়কের পাশে অপেক্ষা করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না।
যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে বগুড়া রুটে ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হলেও বর্তমানে তা ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ রুটে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ভাড়া বেড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কোথাও আরও বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতির কারণে স্বল্প আয়ের অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে পিকআপ বা ট্রাকে করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পরিকল্পিতভাবে পর্যাপ্ত গাড়ি না নামিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। পরে বেশি ভাড়ায় গাড়ি চালানোর জন্য কিছু যানবাহন অপেক্ষায় রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়া এবং মহাসড়কে ধীরগতির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন প্রায় ৪৫ শতাংশ শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ায় ঢাকা, গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড় দিয়ে প্রায় ২৬ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও এই এলাকায় যানবাহনের তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের দাবি, পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।






