দুই কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজ
- শোলমারি-মুচিগাড়ি ও সিংহাটি-নাড়াপোতা সড়ক

ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুর সদর উপজেলায় দুটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শোলমারি-মুচিগাড়ি ও সিংহাটি-নাড়াপোতা সড়ক দুটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, সড়কের ডব্লিউবিএম স্তরে নিম্নমানের ইটের খোয়া এবং সাব-বেসে কাদাযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি এলজিইডির কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলজিইডির তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শোলমারি-মুচিগাড়ি এলাকায় ১ হাজার ৩০০ মিটার এবং সিংহাটি-নাড়াপোতা মাঠ এলাকায় ৭৫০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। কাজটি করছে ইএমএস সলিউশনস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে সিংহাটি-নাড়াপোতা মাঠ এলাকার অংশে ডব্লিউবিএম স্তরের কাজ চলছে। তবে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ইটের খোয়ার সঙ্গে আধলা, কাদামাটি মাখানো এবং পুরনো ঘরের দেয়াল ভাঙা সিমেন্টযুক্ত ইটও ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাব-বেস স্তরে কাদাযুক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
সিংহাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ভাষায়, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজের মান নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি এলজিইডির কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সিংহাটি-নাড়াপোতা সড়কটি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাসিন্দারা বললেন, ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষের জমি রয়েছে। সেখানে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে সড়কটি ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলায় এমনিতেই তাদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর মান ঠিক না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার শিমুল বলেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সব মালামাল মানসম্মত। তার ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রীর বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দেখভাল করছে।
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা অপসারণ করতে হবে— সাফ জানালেন সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আক্তার হোসেন। তার ভাষ্য, ঠিকাদারের কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করা হবে।



