১৯৮ টাকার পৌর কর এক বছরে বেড়ে ৭ হাজার!

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা জানিয়েছিলেন, নতুন কোনো কর বৃদ্ধি না করেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বাস্তবে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মো. আব্দুস সাত্তার জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার পৌর কর ছিল ১৯৮ টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওই কর পরিশোধ করেছেন। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তার নামে কর ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮০ টাকা। টিনশেডের একটি অর্ধনির্মিত (হাফবিল্ডিং) ঘরের কর এক বছরের ব্যবধানে এতটা কীভাবে বাড়ল, তা তার বোধগম্য নয়।
একই মহল্লার বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল মাত্র ৫৪ টাকা। তিনি তা ব্যাংকে পরিশোধও করেছেন। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তার নামে কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৪০ টাকা। পরে পৌরসভার ট্যাক্স বিভাগে যোগাযোগ করলে ২০০ টাকা আবেদন ফি নিয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকার নতুন একটি বিল দেওয়া হয়। তার প্রশ্ন, অর্ধনির্মিত টিনশেডের একটি ঘরের কর এত টাকা কীভাবে নির্ধারণ করা হলো?
চকপাড়ার মোছা. সালমা আক্তার (কমলা) জানান, পৌর শহরে তার নামে কোনো জমি নেই। ১০-১২ বছর আগে বাবার ভিটায় একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি করে বসবাস করতেন। পরে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে সপরিবারে ঢাকায় চলে যান। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তার নামে ২ হাজার ৭৯০ টাকা পৌর কর এসেছে।
একই এলাকার মো. ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সুদের কারবারিদের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে পৌর কর বাড়ানো হচ্ছে। তার নামে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৯ টাকা বকেয়া করের বিল এসেছিল। নানা কারণে তা পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি বকেয়াসহ তার নামে ৫ হাজার ১৬ টাকা পৌর করের বিল এসেছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এত কর কীভাবে বাড়তে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অন্যায্য।
চকপাড়া মহল্লার আরিফ জানান, তিনি তিন বছর আগে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হোল্ডিং নম্বরের জন্য আবেদন করলেও এখনো নম্বর প্লেট পাননি। অথচ চলতি অর্থবছরে তার নামে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে বকেয়া দেখিয়ে ৮ হাজার ৯৮৬ টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে তিনি এলাকাতেই ছিলেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু ১ নম্বর ওয়ার্ডেই শতাধিক করদাতার ওপর এভাবে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি করের এই বোঝা বহন করা কঠিন। তারা পূর্বের হারে কর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভা পাঁচ বছর পরপর গৃহকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পৌরসভায় নতুন মূল্যায়নের মাধ্যমে কর ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর নজির রয়েছে। তবে গৌরীপুর পৌরসভায় কর বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। জনগণের স্বার্থ ও সুবিধাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এবার কোথাও কোনো কর বৃদ্ধি করেনি সরকার। গৌরীপুর পৌরসভায় এ ধরনের অন্যায্য কর বৃদ্ধি করা হলে তা অবশ্যই কমাতে হবে।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে গৌরীপুর পৌর প্রশাসক সুনন্দা সরকার প্রমা বলেন, ‘এখানে কিছু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। কোনো পরামর্শ ছাড়াই ট্যাক্স বিভাগ ১ নম্বর ওয়ার্ডে অতিরিক্ত কর বৃদ্ধি করে বিল বিতরণ করেছে। বিষয়টি এরই মধ্যে আমার নজরে এসেছে। বিলগুলো নতুন করে সমন্বয় করা হবে।’ শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।




