সুন্দরগঞ্জে জলাতঙ্কে আরও এক নারীর মৃত্যু, পাঁচ দিনে প্রাণ গেল ৪ জনের

সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও এক নারী। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে উপজেলাটিতে জলাতঙ্কে মৃত্যু হলো চারজনের। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
মঙ্গলবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের আফরোজা বেগম (৪৫)। মতিয়ার রহমানের স্ত্রী তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২২ এপ্রিল কঞ্চিবাড়ি, বজরা কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৩ জনকে কামড়ে আহত করে একটি বেওয়ারিশ কুকুর। অভিযোগ রয়েছে, আহতদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে সময়মতো জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা পাননি। পরে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদের। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৪ ঘণ্টা পর টিকা নেন কয়েকজন আক্রান্ত ব্যক্তি।
এর আগে গত ৬ মে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া। পরে ৮ মে ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমারের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ আফরোজা বেগমের মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরও নয়জন। তাদের নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আফরোজা বেগমের স্বামী মতিয়ার রহমান জানান, কুকুরে কামড়ানোর পর প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় তার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা না থাকায় আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়েছে অনেককে। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। আবার সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা পাওয়া গেলে হয়তো এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






