স্কুল আছে, যাওয়ার রাস্তা নেই

বীরতারা ইউনিয়নের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ছবি: আগামীর সময়
স্কুল আছে, কিন্তু নেই যাওয়ার রাস্তা। প্রতিদিন কাদাপানি আর ধানক্ষেতের আইল মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয় ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। বর্ষায় আরও বেড়ে যায় এই দুর্ভোগ।
স্কুলটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নে অবস্থিত। নাম ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। আর এটি সরকারিকরণ করা হয় ২০১৩ সালে। এখন শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী আছে ৮৩ জন। সেখানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করে জমিদাতা। পরে আশপাশের জমির মালিকরা রাস্তার জন্য জায়গা না দেওয়ায় আজও তৈরি হয়নি বিদ্যালয়ে যাতায়াতের স্থায়ী পথ। ফলে ধানক্ষেতের আইল দিয়েই চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেছে, ‘বৃষ্টি হলেই আইল পানিতে তলিয়ে যায়। তখন স্কুলে যেতে গিয়ে অনেকেই পিছলে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট করে। কয়েক দিন আগে সেও স্কুল থেকে ফেরার পথে পিছলে পড়ে যায়। তার বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়।’
তার ভাষ্য, ‘এমন অবস্থা চলতে থাকলে অনেক সময় স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বলেছেন, ‘বিদ্যালয়ের চারদিকে আবাদি জমি। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০ গজ দূরে একটি সড়ক থাকলেও সেখান থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো সংযোগ পথ নেই।’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কাদাপানি পেরিয়ে জমির আইল ধরে বাড়ি ফিরছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলেছে, ‘কাদামাটির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ক্ষেতে পড়ে যেতে হয়। এতে জমির মালিকরাও ক্ষুব্ধ হন।’
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার বলেছে, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই আইল পিচ্ছিল হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিতে তা পানির নিচে তলিয়ে যায়।’ তাই দ্রুত একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেছেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা না থাকা দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভিন আক্তার বলেছেন, ‘রাস্তা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবারই ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। যাতায়াতের সমস্যার কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে; বরং অনেকেই অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী জানিয়েছেন, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। এতে তাদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত উপস্থিতি দুটিই বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





