শিক্ষকদের কর্মদক্ষতার পর্যালোচনা হবে নিয়মিত: ববি হাজ্জাজ

জৈন্তাপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ, লেখা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা নিশ্চিতে প্রণয়ণ করা হচ্ছে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো। এসব জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বললেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
‘দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কোনো সুযোগ থাকবে না। নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’- সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী।
আজ মঙ্গলবার সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বললেন, ‘শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।’
‘শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে... সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় পরিচালিত হতে হবে’- যোগ করেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ছয় ঘণ্টাব্যাপী এক কর্মশালায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন হবে। এসবও জানালেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিকল্পিত সংস্কার, দক্ষ প্রশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।
এসময় সেখানে ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।




