ইউএনওর গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায় গিয়ে তিন নারীসহ আটক হলেন চালক

শরীয়তপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ি নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় যাওয়ার পর মো. বাদশা আকন নামে এক গাড়িচালককে তিন নারীর সঙ্গে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় যোগ দিতে রবিবার শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার পর সরকারি গাড়ি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান গাড়িচালক মো. বাদশা আকন। বাসাটিতে তিন নারী ভাড়া থাকতেন।
বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বাসাটিতে গিয়ে গাড়িচালক বাদশা আকন ও তিন নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, এ সময় বাসার ভেতর থেকে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত ছিল। গাড়িচালক বাদশা আকনকেও বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তারা।
বাসাটির কেয়ারটেকার জানান, গাড়িচালক বাদশা আকন ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া করে দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
আটক নারীদের একজন দাবি করেন, বাদশা তার ভাই এবং সেই পরিচয়েই তাদের বাসায় আসতেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দরজা খুলে ঘরে ঢুকে তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা মাদক সেবনের সরঞ্জাম ঘরে রেখে পুলিশে খবর দেন।
তবে গাড়িচালক বাদশা আকন বলেন, ওই নারীরা তার কোনো আত্মীয় নন, তবে তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে একটি বাসা ঠিক করে দেওয়ার কথা বলছিলেন। রবিবার ইউএনওকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে ওই বাসায় যান বলে জানান তিনি।
বাদশা বলেন, আসার পরেই কিছু লোকজন এসে দরজা নক করে। পরে দরজা খোলার পর তারা বলে, এখানে অনেক অনৈতিক কাজ হয়। আমি আসলে এসবের কিছুই জানি না।
পালং মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুস শুকুর বলেন, এখানে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ অনৈতিক কাজ করছে এবং নিয়মিত মাদক সেবন করা হয়, এমন খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। পরে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিনজন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। গাড়িচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তার দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




