শেরপুরের ব্রিজ ও রাস্তার দাবিতে ২০ হাজার চরবাসীর মানববন্ধন

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুর সদরের উন্নয়ন বঞ্চিত কামারেরচরে ব্রিজ ও রাস্তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চরবাসী। এজন্য তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, শহরে বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের কাছে শেরপুর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরত্বের ৬ নম্বর চর, গোয়ালপাড়া, পয়েস্তিরচরসহ অন্তত ছয় গ্রামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। অবহেলিত এই চরাঞ্চলের অর্ধ লাখ মানুষের বসতি থাকলেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ছয় মাস থাকে পানির নিচে। সেই সঙ্গে সেতুর অভাবে বড় ভোগান্তিতে আছে দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ। তাই রাস্তা ও ব্রিজের দাবিতে আন্দোলনের ডাক তাদের।
১৯ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে।
জেলা সদরের দুর্গম চরাঞ্চল ৬ নম্বর চর, গোয়ালপাড়া, পয়েস্তিরচর, দক্ষিণ ৬ নম্বর চর, নতুনপাড়া ও ৭ নম্বর চর গ্রাম। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দশানী ও ব্রহ্মপুত্র নদ, যা গ্রামগুলোকে বিভক্ত করে রেখেছে। কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এই গ্রামগুলোতে পৌঁছানো যেন এক দুঃসাহসিক যাত্রা। প্রয়োজন অন্তত তিনটি সেতুর। কিন্তু নেই একটিও।
স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও আজও হয়নি একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু। সেইসঙ্গে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে
এদিকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো রাস্তা। তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে চলতে হয় ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে, যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও, আজও হয়নি একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু। সেইসঙ্গে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে।
চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার নামে খ্যাত। যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছেন কৃষক। সেইসঙ্গে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়।
তাই চরবাসী তাদের ভোগান্তির অবসান ও ব্রিজ এবং পাকা সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
চরাঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন এলজিইডি শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে ব্রিজ ও সড়কের গুরুত্ব তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টিতে আনার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি সেতু এবং বন্যা উপযোগী টেকসই রাস্তা তৈরি করতে পদক্ষেপ নেবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা চরবাসীর। এ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা আয়োজকদের।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে চর এলাকার স্থানীয় ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও ছাত্র, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তুলে ধরেন তাদের দুর্ভোগের কথা ।

