মৃত্যুসংবাদ শুনলেই জানাজায় হাজির আইয়ুব চৌধুরী

আইয়ুব চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
মানুষের জীবনের শেষ বিদায় জানাজা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। তবে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার এই সময়ে অন্যের জানাজায় উপস্থিত থাকাকে দায়িত্ব হিসেবে নেন খুব কম মানুষই। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের মৈশন গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব চৌধুরী সেই ব্যতিক্রমী মানুষদের একজন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি প্রায় ৭ হাজার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি পাশের উপজেলা ও দূর-দূরান্তের এলাকাতেও কোনো মৃত্যুর সংবাদ পেলেই ছুটে যান তিনি। মানুষের শেষ বিদায়ে শরিক হওয়াকে নিজের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করেন।
আইয়ুব চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই এলাকায় পরিচিত মুখ। তিনি একসময় কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে তিনি কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো পরিবারের সদস্য মারা গেলে আইয়ুব চৌধুরী শুধু জানাজায় অংশ নেন না, দাফন-কাফনের বিভিন্ন কাজেও সহযোগিতা করেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনহীন কিংবা অসহায় মানুষের দাফনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। ফলে এলাকায় একজন মানবিক ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে।
আইয়ুব চৌধুরী বলেছেন, ‘জানাজায় অংশ নেওয়া শুধু একটি ধর্মীয় আমল নয়, এটি মৃত ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও একটি মাধ্যম। যতদিন সুস্থ থাকব, মানুষের শেষ যাত্রায় পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই জনপ্রতিনিধির এমন উদ্যোগ অনেকের কাছেই অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন সাধারণ মানুষের শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকার যে মানবিক দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা সমাজে সহমর্মিতা ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মানুষের জন্মের মতো মৃত্যুও অবধারিত সত্য। আর সেই সত্যের মুখোমুখি হয়ে হাজারো মানুষের জানাজায় অংশ নিয়ে আইয়ুব চৌধুরী যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাই একজন মানুষকে অন্যদের কাছে স্মরণীয় করে রাখে।




