মুক্তি মিলছে না মুক্তমঞ্চের
- কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা

নরসুন্দা লেকসিটির গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত
নরসুন্দা নদীর পাড়ে খোলামেলা পরিবেশ। নির্মল বাতাস, বসার বেঞ্চ, হাঁটার জায়গা— শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা স্বজনদের নিয়ে অবসর কাটানোর জন্য কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা লেকসিটির গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চ ছিল এমনই একটি জায়গা; কিন্তু এখন সেই ‘মুক্ত’ মঞ্চেরই যেন মুক্তি নেই। দর্শনার্থীদের জায়গা দখল করে চারপাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক দোকান ও রেস্তোরাঁ। সংকুচিত হয়েছে হাঁটার পথ, দখলে গেছে বসার বেঞ্চ, বাড়ছে ময়লা-আবর্জনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বখাটে ও কিশোর অপরাধীদের উৎপাত।
স্থানীয়দের ভাষায়, মুক্তমঞ্চ এলাকায় দর্শনার্থীর চেয়ে দোকানপাটই চোখে পড়ে বেশি। অনেক বেঞ্চের চারপাশে গড়ে উঠেছে দোকান ও রেস্তোরাঁ। কোথাও দোকানের মালামাল, কোথাও চেয়ার-টেবিল; আবার কোথাও ক্রেতাদের ভিড়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল।
মুক্তমঞ্চে এত দোকান প্রত্যাশা করেন না শিক্ষক আকিব শিকদার। তিনি ঘুরতে আসেন হাঁটাচলা করার জন্য; কিন্তু সেটি আর হয়ে ওঠে না। তার অভিযোগ, শত শত দোকানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নরসুন্দা নদী ও কলেজ মাঠে। নির্মল ও মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত এলাকাটি ক্রমেই অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
দোকানপাট কীভাবে বছরের পর বছর টিকে আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে বিভিন্ন অভিযোগ। একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, মুক্তমঞ্চের বিভিন্ন দোকান থেকে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করেন। দোকানের জায়গার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্যও আলাদা অর্থ দিতে হয়— দাবি তাদের।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, দোকানগুলোয় দেওয়া সংযোগ বৈধ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফের প্রশ্ন, স্থাপনা অবৈধ হলে সেগুলো থাকে কীভাবে? তার দাবি, মুক্তমঞ্চের দোকানগুলোয় দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ বৈধ। তবে স্থাপনাগুলো অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
জায়গা দখল ও বর্জ্য সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে দর্শনার্থীদের। স্থানীয় বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের ভাষায়, ‘এখানে দর্শনার্থীর চেয়ে দোকান বেশি। হাঁটাচলার কোনো ব্যবস্থা নেই। দখল হয়ে গেছে সব। কিনে খেতে হয় খাবার পানিও।’






