এসএসসি পাসের মিষ্টি না কিনে সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের পাশে শিক্ষার্থীরা

সহপাঠী নাঈমের বাবার হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন তার বন্ধুরা— সংগৃহীত
এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ করার কথা ছিল একদল শিক্ষার্থীর। কিন্তু সহপাঠীর মায়ের ব্লাড ক্যান্সারের খবরে ম্লান হয়ে যায় তাদের আনন্দ। মিষ্টিমুখ করার বদলে তারা ভাবলেন, এই সামান্য টাকা যদি একটি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসায় কাজে লাগে, তবে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাই মিষ্টির জন্য রাখা টাকা একসঙ্গে করে সহপাঠীর পরিবারের হাতে তুলে দিলেন তারা।
আজ রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরের বহুরিয়া ইউনিয়নের কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে এ মানবিক উদ্যোগ নেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ২০২৬ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ নাঈম সিকদারের বাবা সাত্তার সিকদারের হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে দিয়েছেন আরও ২০ হাজার টাকা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুই-তিন দিন আগে নাঈমের মায়ের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি। সহপাঠীরা নাঈমের মায়ের অসুস্থতার খবর জানতে পেরে সিদ্ধান্ত নেয়, পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে সেই অর্থ তুলে দিবেন তার মায়ের চিকিৎসায়।
এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন জানান, পাশ করার আনন্দে মিষ্টিমুখ করার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা বেশি আনন্দিত।
কালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের খান বলেছেন, ‘কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অত্যন্ত মানবিক একটি কাজ করেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই মায়ের চিকিৎসার সামর্থ্য পরিবারের নেই। এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে ওই পরিবারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন।’ একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
কলতান বিদ্যানিকেতনের কারিগরি ও ভোকেশনাল শাখা থেকে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮২ পাওয়া নাঈম সিকদার বললেন, ‘আমার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সেই সঙ্গে আমার মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমার সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’







